শিরোনামঃ

এলডিডিপি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে রাউজান প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার সাথে খামারীদের বিরোধ

ডেইরি পিজির উপকরণ বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দাবি-শর্ত ভঙ্গ করেছে গ্রুপ

রাউজান প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপের (পিজি) জন্য বরাদ্দ দেওয়া উপকরণ ও সরকারি সুবিধা বিতরণ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের ডেইরি পিজির ৪০ জন খামারি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযান করেন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, খামারীরা প্রকল্পের শর্ত ভঙ্গ করায় ওই পিজি পরবর্তী সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে এবং উপকরণ বিতরণে প্রকল্পের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
ডেইরি পিজির সভাপতি মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল রাউজান ইউনিয়নের ৪০ জন খামারিকে নিয়ে ডেইরি পিজি গঠন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় তাঁদের জন্য চেয়ার, টেবিল ও ঘাস কাটার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দুধ সংরক্ষণের জন্য একটি মেশিন বরাদ্দ আসে। ওই মেশিন গ্রহণের জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখনো তা খামারিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণের সময় জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। যাঁরা টাকা দিয়েছেন, তাঁদের অনুদান বা মালামাল দেওয়া হলেও অন্যদের অনেককে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
 উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক খামারিদের দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাউজানে এলডিডিপি প্রকল্পের কার্যক্রম চলে। গত জুনে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ হয়। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৪৮৯ জন সুফলভোগীকে নিয়ে ১৩টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল।
প্রকল্পের আওতায় খামারিদের গবাদিপশু পালন ও পরিচর্যার আধুনিক পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ঘাস কাটার মেশিন, চেয়ার-টেবিল সেট, মুরগি পালনের ঘর ও বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ডেইরি উপকরণ সরবরাহ করা হয়।প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি পিজিকে মাসিক সঞ্চয় জমা দেওয়ার শর্তে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হতো। ১৩টি পিজির মধ্যে ১২টির সঞ্চয় হিসাব নিয়মিত থাকলেও ৭ নম্বর রাউজান  ইউনিয়নের ডেইরি পিজি গত ৪ মে ২০২৬ প্রকল্পের শর্ত ভঙ্গ করে মূল সঞ্চয়ের অর্থ উত্তোলন করার কারণে গ্রুপটির প্রকল্পের আওতায় পরবর্তী উপকরণ পাওয়া থেকে বাদ পড়েন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু বলেন, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে গত জুনে সচল ১২টি পিজির জন্য উপকরণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত উপকরণগুলো সংশ্লিষ্ট ১২টি পিজির মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও সচল ১২টি পিজির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খামারিদের ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জয়িতা বসু বলেন, “অভিযোগটি আমার নজরে এসেছে। ৭ নম্বর  রাউজান ইউনিয়ন ডেইরি পিজি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত না হওয়ায় ৪০ জনের খামারী দলটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বরাদ্দের উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রেও প্রকল্পের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
রাউজান উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে খামারীদের এমন অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ আলমগীর বলেন যারা প্রকল্প কর্মসূচির শর্ত ভঙ্গ করেছে তারা তো প্রকল্পের কোনো সুবিধা পেতে পারে না। প্রকল্পের রূপরেখায় সেটিই বলা আছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL